রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
২০১৫ সালের পর থেকে গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনে সবচেয়ে বেশি দায়ী চীন ও ভারতের বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তেল ও গ্যাস খাত। অথচ ওই বছর প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে নির্গমন কমাতে একমত হয়েছিল তারা। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
দুবাইয়ে চলমান কপ২৮-কে সামনে রেখে এ বিষয়ে আজ রোববার (৩ ডিসেম্বর) প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ক্লাইমেট ট্রেস প্রকল্প। সেখানে বলা হয়, শতাধিক দেশ কমানোর প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর সত্ত্বেও কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে ৮০ গুণ বেশি শক্তিশালী গ্রিনহাউজ গ্যাস মিথেনের নির্গমন বেড়েছে।
তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে বলা হচ্ছে, প্যারিস চুক্তির অধীনে বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও দেশ ও সংস্থাগুলো নির্গমনের প্রতিবেদন সঠিকভাবে দিতে ব্যর্থ হচ্ছে।
গত ৩০ নভেম্বর থেকে দুবাইয়ে সম্মেলন করছে ১৯০টিরও বেশি দেশ। তাদের লক্ষ্য বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার প্রাক-শিল্পযুগের গড়ের চেয়ে দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ রাখা।
ক্লাইমেট ট্রেস সঠিক তথ্যের শূন্যতা পূরণে কাজ করছে বলে জানান সংস্থার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আল গোর। তিনি বলেন, গ্রিনহাউজ গ্যাসের নির্গমনই যদি সমস্যার কারণ হয়, তবে এটি কোথা থেকে আসছে তা খুঁজে বের করতে হবে।
বিশ্বজুড়ে উচ্চমাত্রার নির্গমন উৎসের নির্ভুল তথ্য পেতে স্যাটেলাইট ইমেজ ও এআই সফ্টওয়্যার ব্যবহার করছে ক্লাইমেট ট্রেস। এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশ ও কোম্পানির দেয়া প্রতিবেদনের তুলনা করে অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
নতুন তথ্য দেখায় যে চীনের কয়লা খনি ২০২১ ও ২০২২ সালের মধ্যে বড় অনুপাতের মিথেন নির্গমন বৃদ্ধির জন্য দায়ী। তবে চীন প্রথমবারের মতো জাতীয় জলবায়ু পরিকল্পনায় মিথেন অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করবে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে বৈশ্বিক উত্তাপের সবচেয়ে খারাপ প্রভাব থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো সুযোগ হলো মিথেনের ক্ষয়। তাদের হিসাব অনুসারে, মিথেন ও অন্যান্য স্বল্পস্থায়ী দূষণকারীর হ্রাস বৈশ্বিক তাপমাত্রার বৃদ্ধি দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমাতে পারে।
এদিকে কপ২৮-এ অর্ধশতাধিক জ্বালানি তেল ও গ্যাস কোম্পানি ‘ডিকার্বনাইজেশন এক্সিলারেটর’-এ সম্মত হয়েছে। এর মাধ্যমে তাদের পদক্ষেপগুলোর প্রভাব জলবায়ুর ওপর তুলনামূলক কম পড়বে। তবে তারা উৎপাদন কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়নি। এ কারণে ক্যাম্পেইনাররা বলছেন, চুক্তিটি যথেষ্ট হয়নি।
ক্লাইমেট ট্রেসের তথ্য থেকে আরো জানা গেছে যে কভিড-১৯ লকডাউনের পর উড়োজাহাজ খাতে নির্গমন আরো শক্তিশালী হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থেকে কার্বন নির্গমন ৭৪ শতাংশ ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ১৮ শতাংশ বেড়েছে। সড়ক পরিবহনে নির্গমন বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বলা হচ্ছে, এর পেছনে রয়েছে এসইউভির বিক্রি বৃদ্ধি।
তবে ভালো খবর হচ্ছে, ২০২২ সালে কঙ্গো অববাহিকায় বনাঞ্চলের ক্ষয় ও ধ্বংসের হার কমে গেছে। যা কার্বন নির্গমন হ্রাসের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।